ইউরোপীয় অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি নামে পরিচিত আশ্রয় ও অভিবাসন সংক্রান্ত নতুন ইউরোপীয় নিয়মাবলি কার্যকর হচ্ছে। এই নিয়মগুলো ইউরোপীয় সাধারণ আশ্রয় ব্যবস্থার সংস্কার করে এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন ও অভ্যর্থনা ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন প্রক্রিয়া ও নতুন মানদণ্ড চালু করে।
সীমান্ত প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে, যা কিছু আশ্রয়প্রার্থীর জন্য প্রযোজ্য। এর মাধ্যমে আশ্রয়ের আবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা করা হবে এবং সীমান্ত এলাকায় অবস্থানকালে বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এছাড়া আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য পূর্বের তুলনায় কিছু আইনি সুরক্ষা ও গ্যারান্টি কম থাকবে।
আইন দ্বারা প্রদত্ত ছাড় ব্যতীত, ইউরোপীয় ইউনিয়নে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য গড় স্বীকৃতির হার ২০% বা তার কম এমন দেশগুলোর আবেদনকারীরা এই পদ্ধতির আওতায় আসবেন। যারা পরিচয় এড়ানোর জন্য মিথ্যা তথ্য বা জাল নথি প্রদান করে, সেইসাথে যাদের জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাদের ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে। কার্যপ্রণালী প্রবিধানের (ধারা ৪২, অনুচ্ছেদ ১, উপধারা ‘ই’, ২০২৪/১৩৪৮ অনুসারে) অধীনে নিরাপদ বলে বিবেচিত কোনো তৃতীয় দেশের আবেদনকারীরাও একটি দ্রুততর পদ্ধতির আওতায় আসবেন।
সীমান্ত প্রক্রিয়াটি সাধারণত ১২ সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হতে হবে। এর পর যদি প্রত্যাবাসনের (দেশে ফেরত পাঠানোর) ধাপ প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই পর্যায়ের জন্য আরও ১২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
এর অর্থ হলো, আবেদনকারী সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকলেও, আবেদনটি পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে তাঁকে আইনত ইউনিয়নের ভূখণ্ডে এখনো প্রবেশাধিকার পাননি বলে গণ্য করা হবে।
না, সদস্য রাষ্ট্রগুলো আবেদনকারীর চলাফেরার স্বাধীনতা সীমিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে, যদি তা ইউরোপীয় আইনে নির্ধারিত শর্তাবলীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, বিশেষ করে যখন আবেদনকারী সীমান্ত প্রক্রিয়ার অধীন থাকে।
হ্যাঁ। এই চুক্তিতে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক স্ক্রিনিং চালু করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে
শনাক্তকরণ, বায়োমেট্রিক যাচাই, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা যাচাই।
সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই তাদের প্রশাসনিক ও বিচারিক পদ্ধতিসমূহকে নতুন ইউরোপীয় বিধানাবলীর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে এবং নতুন প্রবিধান ও নতুন নির্দেশিকা দ্বারা নির্ধারিত শর্তাবলী পূরণের জন্য পর্যাপ্ত কাঠামো ও সংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।


